*
সেহরী র ইফতার মানে কি?* *রোজা ,রমজান কি? বিস্তারিত ভাবে জানতে চাই* 🎉🎉🎉🎉🌻🏵️🌻🌻🌻🌻🏵️🏵️🏵️🍁🍁🍁🍁🍁
উত্তর :
শুরু হতে যাচ্ছে রমজান। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। গোটা রমজান মাস রোজা বা উপবাস রাখেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। এই সময় সারা দিনে মাত্র দু-বার খাদ্য গ্রহণ করেন তাঁরা। এছাড়াও *রমজান মাসে পবিত্র ভাবে জীবন যাপনের নির্দেশ রয়েছে কোরানে। মিথ্যে কথা বলা বা কোনও পাপ কাজ করা এই সময় মুসলিমদের সর্বোতভাবে পরিত্যাজ্য।*
রমজানে মাসে দুটি কথা আমরা বারবার শুনে থাকি। একটি সাহরি, অন্যটি ইফতার। ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা রমজান মাসে সেহরি ও ইফতার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেন। *কিন্তু অমুসলিমরা জানেন কি, এই দুটি শব্দের অর্থ?*
রমজান সম্পর্কে wiki থেকে
Fasting in Islam (known as Sawm[1] (صَوْم) ], also commonly known as Rūzeh or Rōzah (Persian: روزه) in non-Arab Muslim countries),
is the practice of abstaining, usually from food, drink, smoking, and sexual activity. During the Islamic holy month of Ramadan, Sawm is observed between dawn and nightfall when the evening adhan is sounded.
[2] Ramadan is the ninth month of the Muslim lunar calendar and fasting is the fourth of the five pillars of Islam.
*Wikipedia says about Ramadan*👇
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Fasting_in_Islam
বাংলা উইকপিডিয়ায়_________
https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8
মহাগ্রন্থ আল কুরআন এ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ ١٨٣ ﴾ [البقرة: ١٨٣]
অর্থাৎ হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর সিয়াম (রোজা) ফরজ (অবশ্য কর্তব্য) করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার(মুত্তাকী : যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে সীমালঙ্ঘন অর্থাৎ খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকে)
(Al Quran: বাকারাহ : ১৮৩)
অরবি ভাষায় *সাহরি কথাটির অর্থ 'ঊষার পূর্বের খাবার'*। অর্থাত্ সূর্যোদয়ের আগে যা খেয়ে নিতে হবে। রমজান মাসে সূর্য ওঠার আগে মুসলিমরা যে খাবার খেয়ে থাকেন, সেই প্রথাকে সেহরি বলা হয়। সারা দিন এর পরে আর কিছু না খেয়ে *আবার সন্ধের পর খাদ্য গ্রহণ করেন রোজা পালন করা মুসলিম সম্প্রদায়। সূর্যাস্তের পরের সেই খাবারকে ইফতার বলা হয়।*
রমজান মাসে অনেকে একসঙ্গে বসে ইফতার গ্রহণ করেন। খেজুর খাবার মাধ্যমে ইফতার শুরু করাই প্রথা। তবে অনেক জায়গায় জল পান করে ইফতার শুরু হয়।
*রোজার মূল উদ্দেশ্য কি? শুধুই কি উপবাস?*
_
🍁🌻🌻🍁🌻🍁_________________
এর মূল উদ্দেশ্য হলো👇
তাকওয়া অর্থাৎ আল্লাহভীতি অর্জন। এটা এমন একটা ভয় যা মানুষকে খারাপ কাজ হতে ফিরিয়ে রাখে। একজন রোজাদার আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় রোজা পালন করে, আল্লাহর ভয়ে গোপনেও কিছু খায় না, সৎ কাজে এগিয়ে যায়, রোজার সওয়াব নষ্ট হয় এমন অনেক জিনিস পরিহার করে- এভাবে সিয়াম সাধনা (রোজা) আল্লাহর হুকুম মানতে মানুষকে অভ্যস্থ করে এবং মানুষের সুকুমার বৃত্তিগুলোকে জাগিয়ে তোলে।
যে রোজা মানুষকে ভালো হতে উৎসাহিত করে না, যে রোজার মাধ্যমে মানুষ খারাপ কাজ পরিহার করতে শেখে না- সে রোজা যথার্থ রোজা নয়।
বর্ণিত হাদিসের আলোকে আমাকে-আপনাকে ভাবতে হবে, নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, আমাদের রোজাগুলো কী তার হক অনুযায়ী হচ্ছে, না শুধু আমরা উপবাস থাকছি?
*রোজা রাখার পর যে কাজ গুলো থেকে বিরত থাকা জরুরি*
🍁🏵️🌻🎉🌻🍁_____________________👇
বর্ণিত হাদীসটি হলো,
প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহেওয়াসাল্লাম) বলেন,
_
‘‘যে ব্যক্তি রোযা রেখে মিথ্যা কথা ও তার উপর আমল ত্যাগ করতে পারল না, সে ব্যক্তির পানাহার ত্যাগ করার মাঝে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।’’[1]
_____________
1] (বুখারী ৬০৫৭, ইবনে মাজাহ ১৬৮৯,
তিনি আরো বলেন,
"তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সিয়াম পালন করবে সে যেন অশ্লীল আচরণ ও চেচামেচি করা থেকে বিরত থাকে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার দিকে মারমুখী হয়ে আসে তবে সে যেন তাকে বলে ‘আমি রোযাদার’। (অর্থাৎ রোযা অবস্থায় আমি গালিগালাজ ও মারামারি করতে পারি না। (মুসলিম : ১১৫১)
*এমন কি যদি শর্ত গুলো না মানে তবে শুধু উপবাস হবে, রোজা হবে না* , এই বিষয়ে Muhammad (SAW) বলেছেন যে,
"এমন অনেক রোযাদার আছে যার রোযা থেকে প্রাপ্তি হচ্ছে শুধুমাত্র ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। তেমনি কিছু নামাযী আছে যাদের নামায কোন নামাযই হচ্ছে না। শুধু যেন রাত জাগছে। (অর্থাৎ সালাত আদায় ও সিয়াম পালন সুন্নাত তরীকামত না হওয়ার কারণে এবং মিথ্যা প্রতারণা ও পাপাচার ত্যাগ না করায় তাদের রোযা ও নামায কোনটাই কবুল হচ্ছে না)" (আহমাদ : ৮৮৪৩)
> *গিবত ও মিথ্যাচার না করা
>> *রূঢ় আচরণ থেকে বিরত থাকা*
রোজা আল্লাহর মাস। এ মাসে আল্লাহ বান্দাকে পরিপূর্ণ নেয়ামত দান করেন। তাই রমজানে সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করা সৎকর্মশীল বান্দার গুণ। তাই কোনো রোজাদারকে যেমন কোনো কষ্ট দেয়া উচিত হবে না, তেমিন করো সঙ্গে রূঢ় আচরণ করাও ঠিক হবে না। সবার সঙ্গে ভালো আচরণ ও কল্যাণ কামনাই জরুরি।
>> *খারাপ দৃষ্টিতে না তাকানো*
>> *পরনিন্দা থেকে বিরত থাকা*
কাজগুলো শুধু রোজা অবস্থায় নিষিদ্ধ এমন নয় বরং সবসময়ের জন্যই এ কাজগুলো অন্যায় ও ঘৃণিত কাজ। বছর জুড়ে এ কাজগুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখতে রমজানই এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার উপযুক্ত সময়।
তাই মুমিন মুসলমানের উচিত এ কাজগুলো থেকে বিরত থেকে রোজা ও ইবাদতের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। রোজার পরিপূর্ণ হক আদায়ে যত্নবান হওয়া জরুরি। সব সময় এ কথা ও কাজগুলো থেকে বিরত থেকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ লাভ করা জরুরি।
আল্লাহ তাআলা রোজাদার ব্যক্তিকে এ কথা ও কাজগুলো থেকে বিরত থেকে রোজা ও ইবাদতকে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহর কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।
*স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজা*
___🍁🌻🌻🌻🌻🍁🍁🌻🎉
______ এবার জেনে নিই যে
বিবেচনায় রোজা আমাদের আধ্যাত্মিক ও শারীরিকভাবে কিছু বিষয় পরিত্যাগ করার কি কি শিক্ষা দেয়?
বছরব্যাপী অপরিমিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরে যে অতিরিক্ত মেদ জমে থাকে তা রোজা রাখার ফলে দূরীভূত হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের শরীরে এইচডিএল (high-density lipoprotein) এবং এলডিএল (low-density lipoprotein) পাওয়া যায়।
এইচডিএল এমন ফ্যাট, যা বহু রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে এবং এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেও ক্ষতিকারক নয়। রোজা রাখার ফলে এইচডিএলের পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যায়। বিপরীতে এলডিএল, যা মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে চরম ক্ষতিকারক।
রোজা রাখার ফলে এটা হ্রাস পেতে থাকে এবং রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকত্ব এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো বিভিন্ন রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করে।
রোজা রাখার ফলে ইউরিক অ্যাসিড এবং রক্তের ইউরিয়ার ঝুঁকিও হ্রাস পায়। যা শরীরে অধিক পরিমাণে বিদ্যমান থাকলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, কিডনি রোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগের কারণ হয়ে থাকে।
আসল কথা হল রোজা কেবল সারাদিন উপোস থেকে নির্ধারিত সময়ে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের নাম নয়। বরং এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা শারীরিক বহুবিধ রোগব্যাধি থেকেও আমাদের রক্ষা করেন।
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের মতে ১৬-১৭ ঘণ্টা ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত থাকার ফলে শরীরের অঙ্গগুলো স্বাভাবিক হতে থাকে এবং পাচনতন্ত্রের উন্নতি হয় এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ, যেমন- গ্যাস, বদহজম, লিভারের রোগ, জয়েন্টে ব্যথার ঝুঁকি ইত্যাদি কমে যায়।
কিন্তু আমাদের দেশের মানুষেরা না জানার কারণে কিংবা অসতর্কতাবসত সাহরি ও ইফতারে অপরিমিত খাবার খেয়ে থাকেন। যা রোগব্যাধি হ্রাসের পরিবর্তে বাড়ার দিকে ধাবিত করে।
_______________
*#অটোফজি : সম্প্রতি এক গবেষণায় fasting বা *উপবাস (রোজা) নিয়ে গবেষণা করে নোবেল প্রাইজ* পেলেন ,,জেনে নিই বিষয়টি*👇👇
🎉🎉🌻🌻🌻🌻🌻🍁🍁🍁🌻🌻🌻
- যদি কোন মানুষ বছরে অন্তত 20 বা 25 দিন 12 থেকে 14 ঘন্টা সম্পূর্ণ “উপবাস” করে, তখন তার শরীর থেকে এই হরমোন(M.G.F -1)এর পরিমাণ প্রয়োজনের থেকে অনেকটাই কমে যাবে।
এমন অবস্থায় তার শরীরে নতুন কোষ তৈরী হতে পারবে না। এবং শরীরের সবল কোষ গুলো দুর্বল কোষ গুলোকেই খেতে শুরু করবে। ফলে সুগার, প্রেসার ও ক্যানসারের সম্ভাবনা শূন্য(0) হয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়াকে “মেডিকেল সায়েন্স” এর ভাষায় “অটোফেজি” বলা হয়।
-এই গবেষণার জন্যই বিজ্ঞানী ইউসনোরি ওসুমি’কে “নোবেল” পুরষ্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
বর্তমান সময়ে ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য এর চেয়ে ভালো পদ্ধতি আর নেই।
উল্লেখ্য বিজ্ঞানী ইউসনোরি ওসুমি আরো বলেন- “আরও ভাল হয় যদি কেউ ঐ 20-25 দিন ছাড়াও সপ্তাহে আরও দুদিন সম্পূর্ণ উপবাস করেন”। তিনি এও বলেন- “আমি নিজেও এই পদ্ধতিতে জীবন যাপন করি”।
এই ঘটনার কিছু দিন পর এক মুসলিম বন্ধুর থেকে জানতে পারেন- “মুসলিমরা বছরে গোটা এক মাস সম্পূর্ণ উপবাস করেন এবং সপ্তাহে দুই দিনও কিছু মুসলিম উপ বাস করেন এবং 1500 বছর ধরে করেআসছেন”।
..এটা জানার পর বিজ্ঞানী চমকে ওঠেন এবং আগ্ৰহের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করেন-“কে এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন”??
উত্তর পান- বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা:)।
... অত:পর সেই বিজ্ঞানী এখন কোরান নিয়ে গবেষণা করছেন - আলহামদুলিল্লাহ
___________________
সংগ্রহ ও সংযোজন : Sk জুয়েল